আমার অভিজ্ঞতায় IELTS reading এর প্রস্তুতি

আমি কিভাবে IELTS রিডিং এর প্রিপারেশন নিয়ে ছিলাম তার অভিজ্ঞতা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আইএলটিএস রিডিং মডিউলে ভালো স্কোর তোলার জন্য দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এদের মধ্যে একটি হলো দ্রুত পড়া এবং অন্যটি হলো কমপ্রিহেনশন। কম্প্রিহেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় যাবো একটু পর।
আমরা ছোটবেলা থেকেই রিডিং পড়ে থাকি। কিন্তু কিভাবে দ্রুত রিডিং পড়া যায় তা নিয়ে কখনো ভাবি না। ধরুন আপনি আগামী এক মাসে মোট ছয়টি উপন্যাস পড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। একটি উপন্যাস পড়তে আপনার 10 ঘন্টা সময় লাগে তাহলে ছয়টি উপন্যাস পড়ার জন্য লাগবে 60 ঘণ্টা। এখন আপনি ইন্টারনেট থেকে কিছু টিপস নিয়ে তা প্রয়োগ করে দেখলেন যে আপনার পড়ার গতি দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এখন যদি আপনি 6 টি উপন্যাস পড়েন তাহলে আপনার লাগবে 30 ঘণ্টা। অর্থাৎ আপনার বেঁচে গেল 30 ঘণ্টা। এরপর থেকে যত কিছুই পড়েন তাতে অর্ধেক সময় বেঁচে যাবে। চিন্তা করে দেখুন তো শুধুমাত্র রিডিং স্পিড বাড়িয়ে আপনি আপনার জীবনের কত সময় বাঁচাতে পারছেন! রিডিং স্পিড বাড়ানোর জন্য আপনাকে প্রচুর পড়তে হবে। একটি একটি করে শব্দ না পড়ে একসাথে দুই বা তিনটি শব্দ পড়তে পারেন। এ ছাড়া ইন্টারনেটে সার্চ দিলে আরো অনেক টিপস পাবেন। রিডিং স্পিড বাড়ানোর জন্য আগামীতে এ ব্যাপারে আরও কিছু লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব।

এবার আসুন কমপ্রিহেনশনের উপর ফোকাস করি। ব্যাপারটা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বোঝাচ্ছি। ধরুন আপনি একটি এক পৃষ্ঠার আর্টিকেল পড়লেন। এরপর আর্টিকেলটি না দেখে এটাতে কি লেখা আছে তা অন্য কাউকে বললেন বা বোঝালেন। আপনি যত সঠিকভাবে এটি অন্যকে বুঝাতে পারবেন ততই আপনার কমপ্রিহেনশন ক্ষমতা বেশি। IELTS reading এর ক্ষেত্রে কম্প্রিহেনশনের দক্ষতা থাকাটা জরুরি। কারণ রিডিং পরীক্ষার সময় কোন প্রশ্নের উত্তর কোথায় আছে তা আপনি জানেন না। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে কম্প্রিহেনশন স্কিল বাড়াবেন?
যখন কোন আর্টিকেল পড়বেন, তা মনে মনে কল্পনা করার চেষ্টা করবেন। যেমন ধরুন একটি আর্টিকেলে লেখা আছে ‘এক ভদ্রলোক আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় খরগোশ নিয়ে গিয়েছেন’। আপনি এটি কল্পনা করলেন যে সেই ব্যক্তি প্লেনে চড়ে একটি খরগোশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। পেছনে আপনি অস্ট্রেলিয়ার একটি মানচিত্র কল্পনা করতে পারেন। এভাবে যদি একটি প্যারাগ্রাফের জন্য একটি ছবি মনে মনে কল্পনা করেন, তাহলে তা আপনাকে মনে রাখতে সহায়তা করবে। ছবিটি যদি মজার বা কৌতুকপূর্ণ হয় তবে তা আরো বেশি মনে থাকবে।
‎IELTS রিডিং মডিউলে 3 টি আর্টিকেল থাকে। প্রথমটি সহজ হয়। দ্বিতীয়টি একটু কঠিন। তৃতীয়টি সবচেয়ে বেশি কঠিন। আমি IELTS প্র্যাকটিস করার সময় প্রথম এবং দ্বিতীয় আর্টিকেলের জন্য 15 মিনিট করে মোট 30 মিনিট সময় বরাদ্দ রাখতাম। আর তৃতীয় আর্টিকেলের জন্য রাখতাম 20 মিনিট। পরীক্ষায় মোট সময় দেয়া হয় 1 ঘন্টা। তাহলে আমার হাতে থাকে আরো 10 মিনিট। এই 10 মিনিট সময় আমি সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতাম যেগুলো আমি কঠিন হওয়ার কারণে আগে দিতে পারিনি। এ সময় আমি বানানটাও চেক করে ফেলতাম।
IELTS Reading এ ভাল রেজাল্ট করার জন্য অনেক ইংরেজি শব্দের মানে জানা থাকা দরকার। বিশেষ করে তৃতীয় আর্টিকেলে অনেক বেশি কঠিন শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে আপনাকে সব শব্দের অর্থ হুবহু জানা থাকতে হবে এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে আপনি অনুমান করেও বুঝে ফেলতে পারবেন, কোন শব্দ দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।
আজ এ পর্যন্তই আগামীতে আরো টিপস এবং ট্রিকস নিয়ে হাজির হব আপনাদের সামনে।

Leave a Reply